রাজধানীতে বিএনপির ‘গণসমাবেশ’ ১০ ডিসেম্বর। এ সমাবেশকে ঘিরে কী হচ্ছে— এমন জল্পনা কল্পনা এখন সর্বত্র। নানা শঙ্কায় আছেন নগরবাসী। এ গণসমাবেশকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। এরইমধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে। রাজধানীর সব আবাসিক হোটেল ও মেসগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহজনক মনে হলে অভিযান চালাবেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) থেকে পুরোদমে মাঠে কাজ শুরু করবেন তারা। সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ইতোমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছে। যাতে কোনও ধরনের নাশকতা কোনও পক্ষ চালাতে না পারে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, ১০ ডিসেম্বর বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে ডিএমপিতে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত ছুটি বন্ধ রাখা হয়েছে। সমাবেশের আগে-পরে তিন দিন সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ৯ ডিসেম্বর থেকে ডিএমপির সব ইউনিটকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হবে। স্বল্প সময়ের নির্দেশনায় যাতে তারা যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে। রাজধানীর প্রতিটি থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে। বার্তায় নিজ নিজ থানা এলাকার আবাসিক হোটেল ও মেসগুলোতে নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। এছাড়া হোটেলগুলোতে কারা আসছে এবং থাকছে, সে বিষয়েও তথ্য চাওয়া হয়েছে আবাসিক হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে। মেসগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজধানীতে সব ধরনের অরাজকতা মোকাবিলা ও নগরবাসীর জানমাল রক্ষায় পুলিশ আপসহীন থাকবে। ২০ নভেম্বর ঢাকার আদালত পাড়া থেকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনার পর পুলিশ সারাদেশে রেড এলার্ট জারি করে। সেই রেড এলার্টের আওতায় রাজধানীসহ সারাদেশে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।
ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এবার পুলিশ আগের মতো আর বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে গায়েবি মামলা দেবে না। অতীতে এ ধরনের মামলায় পুলিশের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করেন তারা। এবার নতুন মামলা কম হবে। কিন্তু আগের মামলার আসামিদের গ্রেফতারে জোর দেওয়া হবে। গায়েবি মামলা না দিয়ে পুরনো মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামির তালিকায় সক্রিয় নেতাকর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে।