মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে করণীয় নির্ধারণ করতে শুক্রবার শীর্ষ মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এই নিয়মিত অধিবেশনে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হলেও, শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠকটি শেষ হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা’র বরাত দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শুক্রবার জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ বন্ধের আশায় কাতার ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরান সফর করছে। শান্তি মধ্যস্থতার অংশ হিসেবেই পাকিস্তানের সেনাবহিনী প্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত বৈঠক করেন। তবে, এই বৈঠকের আগেই বাঘাই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের অবস্থানের মধ্যে এখনও অত্যন্ত গভীর মতবিরোধ রয়েছে এবং কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে আরও সময় ও আলোচনার প্রয়োজন।

এদিকে শান্তি আলোচনার ধীরগতিতে চরম অসন্তুষ্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করার একাধিক বিকল্প প্রস্তাব বা অপশন তুলে ধরা হয়েছে। ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে তিনি ইরানে সামরিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন, কিন্তু পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর অনুরোধে শেষ মুহূর্তে তিনি সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ট্রাম্প নিউ জার্সিতে তাঁর গলফ রিসোর্টে যাওয়ার সপ্তাহান্তের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। এমনকি বাহামাসে তাঁর ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বিয়েতেও তিনি অংশ নিচ্ছেন না বলে নিশ্চিত করেছেন। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আমার ভালোবাসার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমার হোয়াইট হাউসেই থাকাটা জরুরি মনে করছি।
এর আগে ছেলের বিয়ের সময় নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান সংকটসহ সবকিছুর মাঝে এই বিয়ের টাইমিংটা ঠিক হয়নি।

শুক্রবার ওভাল অফিসের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও মার্কিন নেভাল একাডেমির এক অনুষ্ঠানে এই বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প এখন ঠিক কোন পথে হাঁটবেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনি ইরানকে একটি প্রচ্ছন্ন সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলেছিলেন, যুদ্ধ শেষ করতে আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকেই তেহরানকে একটি গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব নিয়ে আসতে হবে। কিছু মার্কিন কর্মকর্তা চলমান আলোচনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও, দুই দেশের মধ্যকার মূল বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তথ্যসূত্র: সিএনএন