আন্তর্জাতিক

এআই দিয়ে অবৈধ বাংলাদেশি খুঁজছেন শুভেন্দু অধিকারী

যারা ভারতে অবৈধপথে এসেছিলেন, তারা ‘স্বেচ্ছায়’ ফিরে যেতে চাইলে কোনো মামলা দেওয়া হবে না। দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এ ঘোষণা দেয়ার আগেই বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য বহু মানুষ প্রতিদিন হাজির হচ্ছেন সাতক্ষীরা ও উত্তর ২৪ পরগনা সীমাান্তে।

শুরুতে প্রতিদিন ১০-১২ জন করে আসছিল। তারপর প্রতিদিনই বাড়ছে। ৩-৪ দিন আগে থেকে সংখ্যাটা কয়েকশ’তে ঠেকেছে।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জয়ী হয়ে নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার কয়েকদিন পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন যে- বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আর থাকতে দেওয়া হবে না। ফেরত পাঠানো হবে। এরপর সপ্তাহ খানেক ধরে প্রতিদিনই সাত সকালে ওই সীমান্তে জড়ো হচ্ছেন নিজের দেশে ফিরে যেতে চাওয়া মানুষ কয়েকশ’ মানুষ। যাদের মধ্যে এক যুগ বা দুই যুগের বেশি ভারতে বসবাসকারীরাও আছেন। তারা ভারতের ভোটাওে। আঁধারকার্ডসহ সব সরকারি নথিতে নাগরিক হিসেবে তাদের নামও রয়েছে।

সীমান্তে যারা জড়ো হচ্ছেন, তারা অনেকেই ‘চোরাই পথে’ ভারতে এসেছিলেন এবং ‘অবৈধভাবেই’ বসবাস এবং কাজকর্ম করছিলেন পশ্চিমবঙ্গে।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে প্রায় একবছর ধরে। এখন সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীদের নথিপত্র যাচাই করে পুশব্যাক চলছে।

অবশ্য বছরের শুরুতে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী এনডিটিভি’র এক অনুষ্ঠানে বলেন, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, বম্বে সরকারের হয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বাংলাদেশি আর রোহিঙ্গা চিহ্নিত করার কাজটি করছে। তবে কীভাবে এই এআই টুলটি ব্যবহার করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এআই বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন- সম্ভবত একজন বাংলাদেশি বা একজন রোহিঙ্গা কীরকম দেখতে হন, তারা কীভাবে কথা বলেন, কী পোশাক পরেন, কোন অঞ্চলের বাসিন্দা- এরকম নানা তথ্য দেওয়া থাকবে এআই টুলটিকে। একই সঙ্গে তাদের বাংলায় কথা বলার ধরনও শেখানো হবে যন্ত্রকে। কিন্তু এত বিপুল পরিমানে তথ্য এআই টুলটিকে আগে থেকে ‘ফিড’ করিয়েও, তা দিয়ে বাস্তবে নির্ভুলভাবে বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করা প্রায় অসম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্ব নিয়ে আন্দোলন ও গবেষণা করা অর্থনীতিবিদ প্রসেনজিৎ বসু প্রশ্ন রাখেন যে, ‘কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিভিন্ন রাজ্যে তো ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন করা হয়েছে বা কাজ চলছে, সেখানে কতজন বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা পাওয়া গেল? সেই হিসাব আগে সরকারগুলো দিক।

‘এসআইআরের মতো প্রক্রিয়াতেও যেখানে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারি বা রোহিঙ্গা পাওয়া গেল না, আর এখন আবার এআই টুল আনা হচ্ছে। পুরোটাই একটা মিথ্যাচার’- বলেন প্রসেনজিৎ বসু।

এনডিটিভির ওয়েবসাইটে ওই খবরের প্রতিবেদনে লেখা হয়- ‘মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেভেন্দ্র ফডনবীশ বলেছেন, একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার টুল তৈরি করা হচ্ছে, যেটা দিয়ে রাজ্যে বেআইনি বাংলাদেশি আর রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা যাবে।”

আরও লেখা হয়- ‘এআই টুলটি আইআইটি বম্বের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করা হচ্ছে এবং এখন সেটি ৬০ শতাংশ নির্ভুল ভাবে কাজ করছে। চার মাসের মধ্যে- অর্থাৎ জুন-জুলাইয়ে সেটি একশ’ শতাংশ নির্ভুল কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে এ প্রসঙ্গে কলকাতা ভিত্তিক ‘মিডিয়াস্কিল্স ল্যাব’ – এর প্রতিষ্ঠাতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ জয়দীপ দাশগুপ্ত বলছিলেন, ‘আমরা এটাকে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বলি, যেখানে ছবি, ভিডিও, মানচিত্র, অডিও, ইনফোগ্রাফিক্স, গবেষণা পত্র – যত তথ্য পাওয়া যায় – সব ফিড করে রাখা হয়। মহারাষ্ট্র যে টুলটি বানাচ্ছে, সেখানেও সম্ভবত এগুলো সবই ব্যবহার করা হবে। ’

তার ভাষ্য, ‘ধরুন যন্ত্রকে শিখিয়ে দেওয়া হবে যে একজন টিপিকাল বাংলাদেশি মুসলমান কেমন দেখতে হন – তিনি টুপি পরেন কি না, গোঁফ ছাড়া দাড়ি রাখেন কি না বা নারীদের ক্ষেত্রে বোরকা পড়েন কি না, কিভাবে কথা বলেন – হয়ত এইসব তথ্য শেখানো হবে। সেগুলির ওপরে ভিত্তি করে যন্ত্র ঠিক করবে যে একজন ব্যক্তি বাংলাদেশি না রোহিঙ্গা না ভারতীয়। অর্থাৎ বাংলাদেশি আর রোহিঙ্গাদের প্রোফাইল ঠিক করা হবে সম্ভবত। কিন্তু এখানে সমস্যাটা হচ্ছে একই ধরণের দাড়ি রাখা বা টুপি পরা তো ভারতের বাংলাভাষী মুসলমানেরও অভ্যাস। আবার বহু হিন্দুও তো দাড়ি রাখেন, নানা ধরণের টুপি পরেন। তাহলে যন্ত্র একজন বাংলাদেশি মুসলমানের সঙ্গে একজন ভারতীয় মুসলমান বা ভারতীয় হিন্দুর ফারাকটা বুঝবে কী করে?’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।

‘বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা চিহ্নিত করার জন্য যে তথ্য দেওয়া হবে যন্ত্রকে, সেখানে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করবে না তো?’ প্রশ্ন তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রের একটি বড় বহুজাতিক কোম্পানির প্রিন্সিপাল সায়েন্টিস্ট অরিজিৎ মুখার্জীর।Politics

তিনি বলছিলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবকিছুই নির্ভর করে তাকে কীধরনের তথ্য দেওয়া হচ্ছে, যাকে আমরা ট্রেনিং ডেটা বলি, তার ওপরে। এধরনের একটা কাজ করতে গেলে লক্ষ লক্ষ ভয়েস স্যাম্পেল শেখাতে হবে যন্ত্রকে। সেগুলোর পৃথকীকরণ কারা করবে? সেখানে যে রাজনৈতিক পক্ষপাত হবে, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। তাই ফলাফলও পক্ষপাতদুষ্ট হবে।’

‘এখানে একজন ব্যক্তি বাংলাদেশি না ভারতীয় বাংলাভাষী, সেটা নির্ধারণ করতে গেলে এক শতাংশ ভুল হলেও চলবে না। এটা নাগরিকত্বের প্রশ্ন।’

বহুজাতিক সংস্থাটির প্রিন্সিপাল সায়েন্টিস্ট অরিজিৎ মুখার্জী বলছিলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার আর বাংলাদেশের লালমনিরহাটের মানুষের মুখের ভাষা কি আলাদা করা যায়? মানুষের কথা বলার ভাষা তো আর রাজনৈতিক সীমারেখা মানে না। তাই এআই দিয়ে ‘বাংলাদেশিদের মুখের ভাষা আলাদা করে চিহ্নিতকরণের বিষয়টি স্বপ্নই থেকে যাবে।

তার মতে, ‘এআই যখন আন্দাজের দিকে পা বাড়াবে, আর তার আন্দাজটা অর্ধেক সময়ে ভুল হবে।
যার পরিনতি হিসেবে গত বছরের মে মাস থেকে অনেক ভারতীয়কেও বাংলাদেশি সন্দেহে পুশ-আউট করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সাম্প্রতিক সংবাদ

পদত্যাগ করলেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

Newsdesk

রাতের মধ্যেই ইরানের তেল ও খার্গ দ্বীপ দখলের হুমকি দিলেন ট্রাম্প

Newsdesk

মার্কিন হামলায় ২ ভারতীয় নাবিক নিহত, একজন নিখোঁজ

Newsdesk