বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে দুই দিনব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলন শেষ করে দেশে ফেরার পথে এক বড় কূটনৈতিক ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, যেসব চীনা কোম্পানি ইরানের কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কিনছে, তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়ে বেইজিংয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এই বিষয়ে তিনি খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক শেষে বেইজিং ছাড়ার পরপরই মার্কিন রাষ্ট্রপতির বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই আমি এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি।
সম্প্রতি ইরানের কাছ থেকে তেল কেনার অপরাধে চীনের বেশ কয়েকটি তেল শোধনাগার বা রিফাইনারির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে অন্যতম হলো চীনের অন্যতম বৃহত্তম বেসরকারি তেল শোধনাগার ‘হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল’।
এই কোম্পানিটিকে চীনের জ্বালানি শিল্পের আধুনিকীকরণ ও রূপান্তরের এক বড় প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে এই কোম্পানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বেইজিংয়ের জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল, যা নিয়ে ট্রাম্পের এই সফরে দ্বিপাক্ষিক স্তরে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
সফর চলাকালীন ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ মার্কিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চীনের সামনে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আমেরিকার কাছ থেকে আরও বেশি জ্বালানি ও তেল কেনার প্রস্তাবটি গুরুত্বের সাথে উত্থাপন করেন। তবে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এই বৈঠকের যে আনুষ্ঠানিক বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে মার্কিন জ্বালানি কেনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়নি।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প আবারও স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের ব্যাপারে তাঁর ধৈর্যের সীমা ফুরিয়ে আসছে। তিনি এবং শি জিনপিং এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি সচল রাখতে দেশটিকে অবশ্যই অবরুদ্ধ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় উন্মুক্ত করতে হবে।
তবে আলোচনার টেবিলে ইরান সংকটের সমাধানে একটি নতুন শর্তের কথাও উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি আগামী ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখতে সম্মত হয়, তবে তাতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই।
তবে এই প্রতিশ্রুতি শুধু কাগজে-কলমে হলে চলবে না, তেহরানের পক্ষ থেকে এর একটি ‘বাস্তব ও সুনিশ্চিত’ নিশ্চয়তা থাকতে হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, ২০ বছর (স্থগিত রাখা) যথেষ্ট, তবে তাদের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতির স্তরটি হতে হবে একদম বাস্তব, যেন সেটি সত্যিই একটি প্রকৃত ২০ বছর হয়।
সূত্র: রয়টার্স