আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পদ যেমন আকাশচুম্বী হয়েছে, তেমনি ফ্লোরিডায় তার দুটি প্রধান রিসোর্ট থেকেও রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আয় হয়েছে। বিষয়টি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবসা এবং রাষ্ট্রপতির রাজনীতির মধ্যেকার পারস্পরিক সম্পর্কের একটি জোরালো উদাহরণ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
গত বছরের শুরু থেকে ট্রাম্প তার দুটি সম্পত্তি- মার-এ-লাগো এবং ট্রাম্প ন্যাশনাল ডোরাল, দুই ডজনেরও বেশিবার পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তিনি মিলিয়ন ডলার মূল্যের খাবারসহ তহবিল সংগ্রহের নৈশভোজের আয়োজন করেছেন, বিদেশী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আপ্যায়ন করেছেন এবং রিপাবলিকান পার্টির জমকালো অনুষ্ঠানগুলোকে স্বাগত জানিয়েছেন। একই সময়ে শিল্পপতি এবং রাজনৈতিক দলগুলোও সেখানে নিজেদের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।
পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে সদস্যপদের প্রাথমিক ফি ১০ লাখ ডলারে উন্নীত করে ট্রাম্প মার-এ-লাগো থেকে আসা অর্থের পরিমাণও বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছেন। ক্লাবটির সাথে পরিচিত ব্যক্তিদের মতে, এই বিলাসবহুল রিসোর্টটি প্রেসিডেন্টের সাথে আকস্মিক আলাপচারিতার জন্য বেশ উপযোগী, যেখানে তিনি প্রায়শই এর বহিঃপ্রাঙ্গণে নৈশভোজ করেন।
কিছু নীতিশাস্ত্র বিশেষজ্ঞ রাজনীতি ও লাভের এই সংমিশ্রণকে বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর জন্য ট্রাম্পের সাথে সরাসরি যোগাযোগের একটি সুস্পষ্ট সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘পাবলিক সিটিজেন’-এর সহ-সভাপতি রবার্ট ওয়েইসম্যান বলেন, “লোকেরা মার-এ-লাগোতে যাচ্ছে, কারণ তারা প্রেসিডেন্টের সান্নিধ্য চায়। প্রেসিডেন্টের কানে ফিসফিস করে কিছু বলার মূল্য অনেক বেশি—প্রবেশের জন্য তারা যা খরচ করছে, তার চেয়েও বেশি।”
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট বা তার পরিবার কখনোই স্বার্থের সংঘাতে জড়িত হননি বা হবেনও না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সমস্ত পদক্ষেপ আমেরিকান জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থে নেওয়া হয়।”
পুনরায় ক্ষমতা গ্রহণের আগে ট্রাম্প তার নামে থাকা কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় নিজেকে জড়িত না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং তার সম্পদ সন্তানদের মাধ্যমে পরিচালিত একটি ট্রাস্টে রেখেছিলেন, যেমনটি তার প্রথম মেয়াদেও ছিল।
অফিস অফ গভর্নমেন্ট এথিকসের মঙ্গলবার প্রকাশিত বার্ষিক তথ্যে দেখা গেছে, ক্ষমতায় থাকাকালে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদ অন্য যেকোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে অনেক বেশি ফুলেফেঁপে উঠেছে। তিনি তার ফ্লোরিডার সম্পত্তিগুলো থেকে প্রাপ্ত আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছেন, মার-এ-লাগো থেকে প্রায় ৭ দশমিক ৭৫ কোটি ডলার আয় করেছেন – যা আগের বছরের আয়ের চেয়ে ৫০ শতাংশেরও বেশি এবং ২০২০ সালে রিসোর্টটি থেকে তার আয়ের তিনগুণ।
এই তথ্যে আরো দেখা যায়, প্রেসিডেন্টের পোর্টফোলিওতে রিসোর্টগুলোকে ছাপিয়ে যাচ্ছে তার লাভজনক নতুন ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্যোগগুলো থেকে আসা ১৪০ কোটি ডলারেরও বেশি আয়, যার মধ্যে রয়েছে $TRUMP মিমকয়েন এবং ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিনান্সিয়াল, যা ট্রাম্পের ছেলেদের সহ-প্রতিষ্ঠিত একটি সংস্থা।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্প গত বছর তার গলফ ক্লাব, হোটেল এবং রিসোর্টের সাম্রাজ্য থেকে যা আয় করেছেন, তার প্রায় তিনগুণ বেশি ক্রিপ্টো থেকে আয় করেছেন।