রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও এর আশপাশের অঞ্চলে গত এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রাতভর চালানো এই হামলায় ৫০০টিরও বেশি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে এক ভারতীয় নাগরিকসহ কমপক্ষে তিনজন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের এই পাল্টা হামলাকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে চালানো তাদের অন্যতম বৃহত্তম ড্রোন অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস স্থানীয় ও সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, শনিবার রাতভর ইউক্রেনীয় বাহিনী এই বিধ্বংসী হামলা চালায়। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, রাজধানীর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত খিমকি শহরের একটি আবাসিক বাড়িতে ড্রোন আঘাত হানলে এক নারী নিহত হন এবং ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও একজন আটকে পড়েন।
এছাড়া উত্তর-পূর্বের মিতিশ্চি এলাকায় একটি নির্মাণাধীন বাড়ির ওপর ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ভেঙে পড়লে দুই ব্যক্তি নিহত হন।
রাশিয়ায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস নিশ্চিত করেছে, এই ড্রোন হামলায় মস্কো অঞ্চলে একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও তিন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে মস্কো এলাকায় ১২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি তেল শোধনাগারের নির্মাণ শ্রমিকরাও রয়েছেন।
এছাড়া ইস্ত্রা শহরে বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চারজন আহত হন এবং সুবোটিনো গ্রামে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি বাড়িতে আগুন ধরে যায়।

ইউক্রেনের সিকিউরিটি সার্ভিস জানিয়েছে, তাদের বাহিনী মস্কো অঞ্চলের অত্যন্ত সংবেদনশীল সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে দুটি তেল পাম্পিং স্টেশন, একটি তেল শোধনাগার এবং ‘অ্যাংস্ট্রম’ নামক একটি কারখানা রয়েছে। এই কারখানাটি রাশিয়ার সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ সরবরাহ করে থাকে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, তারা রাতভর উড়ে আসা ৫৫৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রতিহত করেছে। মেয়র সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী শুধু মস্কো ও এর সংলগ্ন এলাকার দিকে ধেয়ে আসা ১২০টিরও বেশি ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে।
রাশিয়ার ব্যস্ততম বিমানবন্দর শেরেমেতিয়েভোর ভেতরেও ড্রোনের কিছু টুকরো এসে পড়েছিল, তবে সেখানে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ইউক্রেনের এই হামলাকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার চালানো ভয়াবহ বিমান হামলার একটি বড় ধরনের পাল্টা জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিয়েভে রাশিয়ার সেই হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছিলেন।
ইউক্রেনের ড্রোন হামলার তীব্রতার কারণে মাত্র এক সপ্তাহ আগে রাশিয়া তাদের ঐতিহ্যবাহী বিজয় দিবসের সামরিক প্যারেডও সীমিত পরিসরে করতে বাধ্য হয়েছিল।
রোববার সকালে হামলা চলাকালীন সময়ে ইউক্রেনের আনম্যানড সিস্টেম ফোর্সেসরন কমান্ডার মস্কোর অন্যতম অভিজাত আবাসিক এলাকা পাত্রিয়ার্কির বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে টেলিগ্রামে একটি কড়া বার্তা পোস্ট করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পাত্রিয়ার্কি এবং এর আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের শান্তিপূর্ণ জীবনের ‘ওয়ান-ওয়ে টিকিট’ (একতরফা সুবিধা) বাতিল করা হলো।