চীন সংলগ্ন উত্তর-পূর্ব মিয়ানমারের শান রাজ্যে একটি ভয়াবহ খনি বিস্ফোরণে শিশুসহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত এবং বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় গত রোববার দুপুরের দিকে শান রাজ্যের কাওং তাত গ্রামে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় গণমাধ্যম এবং ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণকারী একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই গ্রামের একটি বিস্ফোরকের গুদামে এই শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইরাবতী’ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় ৬টি শিশুসহ অন্তত ৪৬ জন নিহত এবং ৭০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
তবে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত এক কর্মী অন্য একটি স্থানীয় সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৫৫ ছাড়িয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনার ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রথম বিস্ফোরণের পর আকাশজুড়ে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে আরও বেশ কয়েকটি ছোট ছোট অনাকাঙ্ক্ষিত বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে আশেপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

যে এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি মূলত ‘তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি’-র শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। টিএনএলএ মিয়ানমারের অন্যতম শক্তিশালী একটি নৃতাত্ত্বিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী, যারা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে কয়েক দশক ধরে লড়াই করে আসছে। তারা মূলত থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের একটি অন্যতম প্রধান অংশ। ২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে এই জোটটি দেশজুড়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক বিবৃতিতে টিএনএলএ এই বিস্ফোরণের খবরটি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, যে গুদামটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে সেখানে খনি খননের কাজের জন্য বিস্ফোরক মজুত করে রাখা হয়েছিল। উল্লেখ্য, শান রাজ্যের এই অঞ্চলটি বিশ্বজুড়ে মূল্যবান রুবি বা লাল চুনির খনির জন্য অত্যন্ত বিখ্যাত। খনির পাথর ভাঙার কাজে ব্যবহারের জন্যই সেখানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক রাখা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি তাদের বিবৃতিতে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যার উল্লেখ না করলেও জানিয়েছে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তারা এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সেই সাথে আশ্বস্ত করেছে, এই বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
গুদাম ব্যবস্থাপনায় বা মজুতকরণে কারও কোনো গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তে দোষী প্রমাণিত ব্যক্তিদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। এলাকায় এখনো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও আল জাজিরা