হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরান কোনো টোল বা শুল্ক আরোপ করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই এ ধরনের শুল্ক আরোপ করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
শনিবার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার ৬০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল আরোপ করা যাবে না। এমনকি ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও ইরান এ পথে চলাচলকারী জাহাজ থেকে শুল্ক আদায় করতে পারবে না।
ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি না হলে নিরাপত্তা ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ওয়াশিংটন ভবিষ্যতে শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। পরে যুদ্ধবিরতি সমঝোতার অংশ হিসেবে ৬০ দিনের জন্য জলপথটি খুলে দেওয়ার কথা হয় এবং এ সময় কোনো শুল্ক না নেওয়ার শর্তও নির্ধারিত হয়। তবে শনিবার ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড দাবি করে, সমঝোতা লঙ্ঘনের কারণে তারা আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করেছে। যদিও মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্টকম এ দাবি নাকচ করে জানায়, জলপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও সার হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ রুটে অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই রোববার সুইজারল্যান্ড-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও আব্বাস আরাগচি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।