বিনোদন ডেস্ক :
পর্দায় কখনো অভিনয়শিল্পী, কখনো নির্মাতা। দুই ভূমিকাতেই দীর্ঘদিন ধরে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন শামীম জামান। অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা এবার তিনি কাজে লাগিয়েছেন নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘এক পাতিলের সংসার’-এ। নাটকটিতে যেমন অভিনয় করেছেন, তেমনি পরিচালনার দায়িত্বও সামলেছেন। তিন প্রজন্মের গল্পে নির্মিত এই ধারাবাহিককে ঘিরে তাঁর প্রত্যাশাও বেশ বড়।
শামীম জামানের ভাষায়, যৌথ পরিবারের গল্প বলতেই এত বড় শিল্পীসমাবেশের প্রয়োজন হয়েছে। তিনি বলেন, “গল্পের গভীরতা ও চাহিদার কথা মাথায় রেখেই দক্ষ ও জনপ্রিয় শিল্পীদের যুক্ত করেছি। বাজেট কিছুটা কম থাকা সত্ত্বেও এমন একটি তারকাবহুল ধারাবাহিক নির্মাণ করার তীব্র ইচ্ছা থেকেই কাজটি করেছি।”
অনেকেই নাটকটিকে একসময়কার জনপ্রিয় পারিবারিক ধারাবাহিকগুলোর আবহ ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি মনে করেন, সময়ের সঙ্গে দর্শকের রুচিও বদলেছে। তাই পুরোনো দিনের আবহ ধরে রাখার চেয়ে বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা অনুযায়ী গল্প বলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বিশ্বাস, তিন প্রজন্মের সম্পর্ক ও পারিবারিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই গল্প দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করবে।
অভিনয় ও পরিচালনা, দুই পরিচয়ের মধ্যে কোনটি বেশি আপন? উত্তরে শামীম জামান স্পষ্ট, “আমার প্রথম ও প্রধান পরিচয় আমি একজন অভিনেতা।” তবে পরিচালনাকেও তিনি সমান সৃজনশীল দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। অভিনয় দিয়েই যাত্রা শুরু হওয়ায় সেই পরিচয়ের প্রতি তাঁর টান সবচেয়ে বেশি।
বর্তমান নাটকে সবচেয়ে বড় সংকট কোথায়? শামীম জামানের মতে, ভালো গল্পের অভাব এখনো রয়েছে, যদিও নতুন প্রজন্মের অনেক নির্মাতা এবং বিশেষ করে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মানসম্মত গল্প নিয়ে কাজ হচ্ছে। তাঁর মতে, ভালো গল্প পেলে দর্শক নাটক দেখবেনই। তবে দর্শকের সাময়িক চাহিদা মেটাতে অশ্লীলতা বা অশালীন সংলাপের আশ্রয় নেওয়ার বিপক্ষে তিনি। তাঁর ভাষায়, পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে উপভোগ করতে পারে, এমন নাটকই বেশি প্রয়োজন।
তিনি মনে করেন, গল্পের পাশাপাশি নাটকের বাজেটেও পরিবর্তন জরুরি। পর্যাপ্ত বাজেট না থাকলে বড় পরিসরের কিংবা তারকাবহুল নাটক নির্মাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
চরিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রেও নিজেকে কোনো গণ্ডিতে আটকে রাখতে চান না শামীম জামান। তাঁর কথায়, “আমি নিজেকে ভাঙতে এবং যেকোনো চরিত্রে মানিয়ে নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত।” বিশেষ করে চ্যালেঞ্জিং চরিত্রই তাঁকে বেশি আকর্ষণ করে।
অভিনয়জীবনের পেছনে পরিবারের অবদানও অকপটে স্বীকার করেন তিনি। বাবা-মা থেকে শুরু করে স্ত্রী ও সন্তান, সবার সমর্থনই তাঁকে এই পথচলায় সাহস জুগিয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, পরিবারের সহযোগিতা না পেলে অভিনেতা হয়ে ওঠা সম্ভব হতো না।
ওটিটিতে এখনো দেখা যায়নি শামীম জামানকে। তবে সুযোগ পেলে কাজ করতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, ওটিটিতে একটি চরিত্র নিয়ে গভীরভাবে কাজ করার সুযোগ বেশি থাকে। শুধু অভিনয় নয়, ভবিষ্যতে ওটিটির জন্য নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। প্রয়োজন শুধু উপযুক্ত সুযোগ ও সৃজনশীল স্বাধীনতা।
বড় পর্দার স্বপ্নও এখনো অটুট। শামীম জামান বলেন, “সিনেমায় অভিনয় করার তীব্র ইচ্ছা যেমন আমার আছে, ঠিক তেমনি ভবিষ্যতে নিজের পরিচালনায় একটি সিনেমা বানানোর স্বপ্নও আমি বুনে চলেছি।” অভিনয়, নির্মাণ আর নতুন গল্পের খোঁজ—সব মিলিয়ে আগামী দিনের পরিকল্পনাও তাই বহুমাত্রিক।