নিজস্ব প্রতিবেদক :
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল আঠারো বারের মতো পিছিয়ে আগামী ২০ আগস্ট ধার্য করেছেন আদালত।
বুধবার (১৫ জুলাই) তদন্ত সংস্থা সিআইডি প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ দিন ধার্য করেন।
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদিকে। গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে এবং শেষে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলায় হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় ডিবি পুলিশকে।
গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়। তবে অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় ইনকিলাব মঞ্চ। পরে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।
অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন-ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ, তার বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, কবির, নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সিবিয়ন দিউ, সঞ্জয় চিসিম, আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু, ফয়সাল, আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ, তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ফিলিপ স্নাল, মুক্তি মাহমুদ ও জেসমিন আক্তার। এদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই’ হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি তৈরি করতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে আসামিরা।
১৮ বার তদন্ত পেছানোর ঘটনায় নানা মহলে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ।