আইসল্যান্ড ট্র্যাজেডির সেই গভীর আতঙ্কের ছায়া আবারও ভর করেছিলো ইংল্যান্ড শিবিরে। ধাবমান ছিল আরেকটি বেদনাদায়ক বিদায়ের দিকে। ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে হাজির হলেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে যখন নিজেদের পায়েই বল রাখতে ভয় পাচ্ছিলো টমাস টুখেলের শিষ্যরা, তখন ১১ মিনিটের এক জাদুকরী ঝড়ে বিপর্যয় থেকে দলকে উদ্ধার করলেন কেইন। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের নাটকীয় জয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে থ্রি লায়ন্সরা। একই সঙ্গে টিকে গেলো কোচ টমাস টুচেলের চাকরিও।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামের বিশাল ভিক্টোরিয়ান রেলওয়ে গম্বুজের নিচে এক উত্তাল, কোলাহলপূর্ণ এবং যন্ত্রণাদায়ক বিকেলে মুখোমুখি হয়েছিলো দুই দল। ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। খেলার মাত্র ছয় মিনিটেই নোহ সাদিকির পাস থেকে বল পেয়ে ব্রায়ান সিপেঙ্গা নিচু শটে পরাস্ত করেন ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে টুখেলের দল।
গোল খেয়ে প্রথমার্ধ জুড়েই জঘন্য ফুটবল খেলে ইংল্যান্ড। কৌশলগত ভারসাম্যহীনতার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের মধ্যে এক চরম হতাশা ও বিভ্রান্তি লক্ষ্য করা যায়। জুড বেলিংহ্যাম অনেক দৌড়ালেও মিডফিল্ডে অতিরিক্ত খেলোয়াড়ের সুবিধা নিয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখে ডিআর কঙ্গো। প্রথমার্ধের হাইড্রেটিং ব্রেকের সময় ইংলিশ ডাগআউটের চিত্রটাই বলে দিচ্ছিলো ভেতরের অস্থিরতা। কালো গ্রীষ্মকালীন শার্ট আর সাদা স্নিকার্স পরা টুখেল খেলোয়াড়দের অবিরাম কৌশলগত পরিবর্তনের কথা বললেও, খেলোয়াড়দের চোখে-মুখে ছিলো কেবলই বিষাদ।
ম্যাচের শেষ হাইড্রেটিং বিরতি পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে ১৯৫০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বা ২০১৬ সালে নিসে আইসল্যান্ডের কাছে হারের চেয়েও বড়ো লজ্জার মুখে দাঁড়িয়ে ছিলো ইংল্যান্ড। যেখানে টুখেলকে নিয়োগের মূল লক্ষ্যই ছিলো বিশ্বকাপ জয়, সেখানে গ্রুপ পর্বের পরই বিদায়ের ঘণ্টা বাজছিলো।
তবে শেষ দিকে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ায় দল। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে রাইট-ব্যাকে খেলতে থাকা ডেক্লান রাইসের লম্বা ক্রস থেকে অ্যান্থনি গর্ডন বল বাড়িয়ে দেন কেইনের দিকে। চমৎকার হেডে ডিআরসি গোলরক্ষক লিওনেল ম্পাসিকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়ান কেইন (১-১)।
সমতায় ফেরার পর আটলান্টা স্টেডিয়ামের স্বস্তির আবহকে জয়ে রূপান্তর করতে বেশি সময় নেননি ইংলিশ অধিনায়ক। ৮৫ মিনিটে আবারও গর্ডনের পাস থেকে ডিআরসি বক্সের ভেতর বলের নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি। এরপর শরীরটা ঘুরিয়ে ডান পায়ের এক নির্মম ও নিখুঁত শটে বারের ঠিক নিচে বল জড়ান। ২-১ গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। এর মাধ্যমে ইংল্যান্ডের হয়ে নিজের ৮৪তম গোলটি করলেন কেইন, যা টুর্নামেন্টে তার পঞ্চম গোল।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর স্টেডিয়াম জুড়ে ইংলিশ সমর্থকদের উল্লাস ও স্বস্তির জোয়ার বয়ে যায়। শুরু থেকে ছন্নছাড়া ফুটবল খেলা দলটিকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুললেন কেইন। এই জয়ের ফলে মেক্সিকো সিটিতে শেষ ১৬-এর ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। দলগত পারফরম্যান্সে অনেক ভুলত্রুটি ও আলগা সংযোগ থাকলেও, টুচেলের দলের জন্য আপাতত বড়ো স্বস্তি—তাদের দলে একজন ‘হ্যারি কেইন’ আছেন।