খেলাফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

বসনিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোয় যুক্তরাষ্ট্র

স্পোর্টস ডেস্ক :

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২৪ বছর পর নতুন অধ্যায় রচনা করল স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। একদিকে ফোলারিন বালোগুনের গোল, অন্যদিকে তার লাল কার্ড; রোমাঞ্চ ভরা ম্যাচে ১০ জন নিয়েও দারুণ লড়াই করে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে হারিয়েছে মার্কিনরা।

ম্যাচের প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে (৪৫ মিনিটে) ফোলারিন বালোগুনের গোলে ১-০ ব্যবধানে লিড নেয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ম্যাচের ৬৪ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা, যখন গোলদাতা বালোগুন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। পরে মালিক টিলম্যানের ফ্রি-কিকে জয় নিশ্চিত হয়।

সানফ্রানসিসকোর বে অ্যারিয়া স্টেডিয়ামে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মরিসিও পচেত্তিনোর দল। নিজেদের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় তুলে নিয়েছে দলটি।

ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ও প্রাণবন্ত ফুটবল খেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিপক্ষ বসনিয়া ম্যাচজুড়ে ছিল অনেকটাই রক্ষণাত্মক, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রেখেছিল মার্কিনরা।

আগামী সোমবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সিয়াটলে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই ম্যাচে বালোগুনকে পাবে না তারা। অন্যদিকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথম জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো বসনিয়ার।

ম্যাচের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলেছিল বসনিয়া। কিক-অফের পরপরই লম্বা বলে আক্রমণে উঠে কর্নার আদায় করে তারা, যদিও সেখান থেকে বিপদ তৈরি হয়নি। ১১তম মিনিটে এদিন জেকোর পাস থেকে শট নেন এরমেদিন দেমিরোভিচ, কিন্তু তা সরাসরি গিয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিসের হাতে।

এক মিনিট পর আরও বড় বিপদের মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। কেরিম আলাজবেগোভিচের বাঁকানো ইনসুইঙ্গার বুঝতে ভুল করেন ফ্রিস। গোললাইন থেকে কোনোমতে বল সরিয়ে জাল অক্ষত রাখেন তিনি।

এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ প্রাণবন্ত ছিল তাদের। সপ্তম মিনিটে ক্রিস্তিয়ান পুলিসিচ জায়গা পেয়ে শট নিলেও বসনিয়ার রক্ষণ সেটি প্রতিহত করে। ১৫তম মিনিটে আন্তোনি রবিনসনের ক্রস থেকে সুযোগ পান বালোগুন, তবে তার শট ছিল দুর্বল।

১৮তম মিনিটে আবারও ডান দিক দিয়ে আক্রমণ সাজায় যুক্তরাষ্ট্র। অ্যালেক্স ফ্রিম্যানের পাস ধরে এগিয়ে যান ওয়েস্টন ম্যাকেনি। তার ক্রস ঠেকাতে গিয়ে বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি বসনিয়া গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলি। ফিরতি বল রবিনসনের মাথায় লাগলেও তা চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। ওই আক্রমণের পর কিছুক্ষণ চিকিৎসা নিতে হয় ভাসিলিকে।

হাইড্রেশন ব্রেকের আগে-পরে বলের দখলে আরও স্পষ্ট আধিপত্য তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্র। ২৯তম মিনিটে তাদের বল দখল ছিল ৭৫ শতাংশের কাছাকাছি। তবে বসনিয়ার রক্ষণ তখনও জমাট ছিল।

৩৩তম মিনিটে বল জালে পাঠিয়েছিলেন বালোগুন। টিলম্যানের প্রেসিং থেকে বল পেয়ে ম্যাকেনি দ্রুত পাস দেন বালোগুনকে। ঘুরে দাঁড়িয়ে দারুণ ফিনিশ করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ফরোয়ার্ড, কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।

৬ মিনিট পর আরেকটি ভালো সুযোগ হাতছাড়া করে যুক্তরাষ্ট্র। টিলম্যানের ব্যাকহিল পেয়ে বক্সে ঢোকেন পুলিসিচ। তার নিচু ক্রস গোলমুখে এলেও বালোগুন ঠিক সময়ে দৌড় না দেওয়ায় বল চলে যায় বিপদসীমা পেরিয়ে।

৪৪তম মিনিটে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোল পায় যুক্তরাষ্ট্র। আবারও আক্রমণের কেন্দ্রে টিলম্যান। আলগা বল ধরে তিনি পাস বাড়ান বালোগুনের দিকে। মুহারেমোভিচ বল নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলে সুযোগ পেয়ে যান বালোগুন। এবার আর ভুল করেননি তিনি; ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে এগিয়ে দেন স্বাগতিকদের।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাকেনির দারুণ লফটেড পাস থেকে সের্জিনিও ডেস্ট বল বাড়ান বালোগুনের দিকে। কিন্তু কাছ থেকে কার্যকর টাচ নিতে পারেননি তিনি, বল চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। অগোছালো শেষের পরও বিরতিতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।

প্রথমার্ধে ৬৩ শতাংশ বল দখলে রাখে পচেত্তিনোর দল। গোলের জন্য ৬টি শট নিয়ে কেবল একটি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। সেটিই পরিণত করে গোলে। বসনিয়ার ২ শটের দুটিই ছিল লক্ষ্যে, তবে ফ্রিসকে বড় পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি তারা।

বিরতির পরও শুরুতে নিয়ন্ত্রণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। ৪৯তম মিনিটে পুলিসিকের ক্রস থেকে বিপদ তৈরি হলেও সেয়াদ কোলাসিনাচ মাথা ছুঁইয়ে কর্নারে পাঠান।

৫৩তম মিনিটে তিন পরিবর্তন আনে বসনিয়া। মাঠ ছাড়েন জেকো, আরমিন গিগোভিচ ও ইভান শুনজিচ। নামেন এসমির বাইরাকতারেভিচ, এরমিন মাহমিচ ও বেঞ্জামিন তাহিরোভিচ। অভিজ্ঞ জেকোকে তুলে নেওয়ার পর আক্রমণে নতুন গতি আনার চেষ্টা করে তারা।

তবে বল পায়ে সময় পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের বক্সের কাছে পৌঁছাতে পারছিল না বসনিয়া। ৫৯তম মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে কোলাসিনাচের নিচু ক্রস দেমিরোভিচের দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু অভিজ্ঞ টিম রিম দারুণ কাভারে বিপদ সরান।

৬১তম মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ঘটনা। বলের লড়াইয়ে বালোগুনের পা পড়ে মুহারেমোভিচের ডান অ্যাঙ্কেলের পেছনে। প্রথমে খেলা চললেও ভিএআরের পর রেফারি মনিটরে গিয়ে দেখেন ঘটনা। ৬৫তম মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন বালোগুন।

একজন বেশি নিয়ে দ্রুত সুযোগ পায় বসনিয়া। ৬৬তম মিনিটে বক্সে বল পেয়ে রিচার্ডসের পায়ের ফাঁক দিয়ে নিচু শট নেন দেমিরোভিচ। তবে শটটি মাঝ বরাবর থাকায় সহজেই ঠেকিয়ে দেন ফ্রিস।

এরপরও বসনিয়া চাপ বাড়াতে পারেনি। বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞরা ম্যাচের গতি কমিয়ে দেয়। ৭৪তম মিনিটে কর্নার থেকে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও পাসিংয়ে ধার না থাকায় আক্রমণ থেমে যায়।

৭৯তম মিনিটে আবারও বল জালে পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। টিলম্যানের ব্যাকহিল থেকে ম্যাকেনি, এরপর আবার টিলম্যান; তার শট ঠেকান ভাসিলি। ফিরতি বলে পুলিসিচ গোল করলেও অফসাইডে বাতিল হয় সেটিও।

তবে ৮৩তম মিনিটে আর থামানো যায়নি টিলম্যানকে। বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় যুক্তরাষ্ট্র। দেয়ালের ওপর দিয়ে চিপের মতো শটে বল পাঠান তিনি। ভাসিলি হাত ছোঁয়ালেও পুরোপুরি ঠেকাতে পারেননি।

দ্বিতীয় গোলের পর বসনিয়ার খেলায় অস্থিরতা বাড়ে। টাচলাইনে হলুদ কার্ড দেখেন কোচ সের্গেই বারবারেজ, এরপর বুকিং পান স্টিয়েপান রাদেলিচও। শেষ দিকে সময় ক্ষেপণের সুযোগ কাজে লাগিয়ে পুলিসিক ও ডেস্টকে তুলে নেন পচেত্তিনো; নামান রিকার্দো পেপি ও সেবাস্তিয়ান বারহাল্টারকে। পরে ম্যাকেনির বদলে মাঠে আসেন জিওভানি রেইনা।

যোগ করা সময় ছিল ১০ মিনিট। তখনই কিছুটা প্রাণ ফিরে পায় বসনিয়ার আক্রমণ। ৯২তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে আলাজবেগোভিচের শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। এরপর আমের মেমিচের দুই প্রচেষ্টাও পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

 

 

সাম্প্রতিক সংবাদ

কোচের চাকরি ও দলের মান বাঁচালেন কেইন, শেষ ষোলেতে ইংল্যান্ড

Newsdesk

ছন্দে ফেরার খোঁজে ইংল্যান্ড, অঘটনের আশায় কঙ্গো

Newsdesk

প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে দলে ফিশার

Babul DRU