রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে সাতটায়। এই জামাতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশ নেবেন। ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর ও বহুস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বুধবার (২৭ মে) সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শনে এসে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাতে এবার প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বরাবরের মতোই নারী ও পুরুষ মুসল্লিদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ এবং আলাদা নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে ড্রোন নজরদারিসহ চার থেকে ছয় স্তরের নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ডিএমপি। এই নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করতে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় এক হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া বিশেষ তল্লাশি চৌকি স্থাপনের পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস ও বিশেষ মেডিকেল টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম ঢাকাবাসীকে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার আহবান জানিয়েছেন। পরিবেশ সুরক্ষায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা চটের ব্যাগ ব্যবহার করার পাশাপাশি নিজ নিজ দায়িত্বে ব্লিচিং পাউডার ও স্যাভলন ব্যবহারের অনুরোধ জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতকে ঘিরে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—সব ধরনের প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই পুরো আয়োজন সফল করতে মুসল্লিদের আন্তরিক সহযোগিতা ও সচেতনতাকেই সবচেয়ে বড়ো শর্ত হিসেবে দেখছেন তারা।