ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে পৌঁছেছে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাদো এ তথ্য জানিয়েছেন। শুক্রবার দেশটির সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ খবর প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কার্লোস আলভারাদো বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে প্রায় ২৩৫ জনকে হাসপাতালে কোনো প্রাণের লক্ষণ ছাড়াই পাওয়া গেছে। আবার অনেকেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পথেই মারা গেছেন।’
তিনি জানান, ভূমিকম্পে বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকারী দল তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, ভূমিকম্প আঘাত হানার কয়েক সেকেন্ড বা মিনিট আগে তারা গুগলের জরুরি সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন। তাদের মতে, এই সতর্কবার্তা অনেক মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করেছে।
একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘গুগলের ভূমিকম্প সতর্কতা আজ ভেনেজুয়েলায় অনেক মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। ভূমিকম্পের কয়েক সেকেন্ড আগে আমার স্মার্টফোনে তীব্র সতর্কসংকেত বেজে ওঠে। এতে আমি দ্রুত বাড়ি থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে যেতে পেরেছি।’
গুগলের অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক ভূমিকম্প সতর্কতা ব্যবস্থা বিশ্বের কোটি কোটি স্মার্টফোনকে একটি বিশাল ভূমিকম্প শনাক্তকারী নেটওয়ার্কে পরিণত করেছে।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থাকা অ্যাক্সিলোমিটার সেন্সর ভূমিকম্পের প্রাথমিক কম্পন শনাক্ত করতে পারে। কোনো এলাকায় একাধিক ফোন একই ধরনের কম্পন শনাক্ত করলে সেই তথ্য গুগলের সার্ভারে পাঠানো হয়।
এরপর বিভিন্ন ডিভাইস থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ভূমিকম্পের অবস্থান ও সম্ভাব্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। শক্তিশালী কম্পন পৌঁছানোর আগেই আশপাশের ব্যবহারকারীদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
এই প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো, যেসব দেশ বা অঞ্চলে ব্যয়বহুল প্রচলিত ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নেই, সেখানে দ্রুত আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া। ২০২১ সালে চালুর পর থেকে গুগলের এই সেবা বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশে সম্প্রসারিত হয়েছে।