আন্তর্জাতিক

ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি আরও ৪৫ দিন বাড়ল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত দুই দিনের গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ শেষে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (১৫ মে) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগোট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানান, গত ১৬ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আলোচনাকে তিনি “গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ” বলে উল্লেখ করেন।

মূলত সীমান্ত পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করতেই দুই দেশের প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈঠকে অংশ নেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

সচিবালয়ে আগুন গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ: রিজভী

গত মার্চে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার পর দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলের দাবি ছিল, লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলা ঠেকানো এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ অভিযান চালানো হয়।

এরপর কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতে দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। বহু মানুষ আহত হন এবং বিপুল সংখ্যক বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ওই সময় মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

সংঘাতের এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতায় গত ১৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল ও লেবানন। সেই বিরতির মেয়াদ আগামী রোববার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা আরও দেড় মাস বহাল থাকবে।

তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও সীমান্ত এলাকায় বিচ্ছিন্ন হামলার অভিযোগ উঠেছে। দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার খবরও পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় হতাহতের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি শ্রমিকও ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

ওয়াশিংটনের এবারের সংলাপকে কেবল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর আলোচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে না; বরং দীর্ঘ সময় পর দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ হিসেবেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ভবিষ্যতে সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে উত্তেজনা কমিয়ে আনতে।

মার্কিন প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৯ এপ্রিলের মধ্যে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা ইসরায়েল ও লেবাননের জন্য নতুন একটি নিরাপত্তা পরিকল্পনার খসড়া প্রস্তুত করবেন। সেই পরিকল্পনা নিয়ে জুনের শুরুতে আবারও বৈঠকে বসতে পারে দুই দেশের প্রতিনিধি দল। পরবর্তী বৈঠকও ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র : রয়টার্স

সাম্প্রতিক সংবাদ

এক বৈঠক, দুই গল্প: ট্রাম্প ও শির আলোচনার আসল সত্য কোনটা?

Newsdesk

চীনা কোম্পানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবেন ট্রাম্প!

Newsdesk

পোল্যান্ডে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

Newsdesk